Sayem Social Expert ও smmsirat.com প্রতারণা সতর্কতা
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে উপার্জনের স্বপ্ন দেখেন বহু তরুণ-তরুণী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। কিন্তু এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র ফেসবুকে ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন এবং ফেসবুক পেজ/প্রোফাইল মনিটাইজেশনের নাম করে সাধারণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে একাধিক এজেন্সির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে এই অনলাইন স্ক্যাম বা প্রতারণাচক্রের চাঞ্চল্যকর বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো—
১. প্রথম ঘটনা: ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশনের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউ, সাবস্ক্রাইবার ও মনিটাইজেশন সার্ভিস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে সক্রিয় রয়েছে smmsirat.com নামের একটি প্ল্যাটফর্ম বা এজেন্সি।

ঘটনার বিবরণ:
ভুক্তভোগী একজন নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজ করার বিষয়ে ওই প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে কাজের চুক্তি হিসেবে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলা হয়। ভুক্তভোগী গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাত ১১:১৫ মিনিটে তাদের দেওয়া নগদ নম্বর (01766-012856) এ মোট ৫০০ টাকা সেন্ড মানি করেন (যার ট্রানজেকশন আইডি: 7645U1FQ)।
টাকা লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর উক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর কোনো মেসেজের উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং কল রিসিভ করা থেকে বিরত থাকে। কাজের কোনো অগ্রগতি তো দূরের কথা, আর্থিক লেনদেনের পর সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় চক্রটি।
ইউটিউব প্রতারণায় জড়িত নম্বর ও প্ল্যাটফর্ম:
- হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (WhatsApp): +880 1913-022305
- বিকাশ পার্সোনাল (bKash): 01704 810 106
- নগদ পার্সোনাল (Nagad): 01766 012 856 / 01766-012856
- রকেট পার্সোনাল (Rocket): 01913 022 305
- ফেসবুক পেজ/সাইট: smmsirat.com
দ্বিতীয় ঘটনা: ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল মনিটাইজেশন স্ক্যাম
ইউটিউবের ঘটনার মতোই একইভাবে ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল দ্রুত মনিটাইজ করে দেওয়ার কথা বলে অন্য আরেকটি প্রতারণামূলক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মূল পেজ হিসেবে নাম এসেছে Sayem Social Expert।
ইউটিউবের ঘটনার মতোই একইভাবে ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল দ্রুত মনিটাইজ করে দেওয়ার কথা বলে অন্য আরেকটি প্রতারণামূলক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মূল পেজ হিসেবে নাম এসেছে Sayem Social Expert।
ঘটনার বিবরণ:
ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল মনিটাইজেশন করে দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর সাথে ১৩৫০ টাকার একটি চুক্তি হয়। কাজের শুরুতেই অর্ধেক টাকা অর্থাৎ ৬২৫ টাকা বা সমপরিমাণ অগ্রিম হিসেবে দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে ওই ব্যক্তিকে অগ্রিম ৬২৫ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরপরই উক্ত পেজের অ্যাডমিন বা ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে তার ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল থেকে ব্লক করে দেয় এবং সমস্ত যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
ফেসবুকে প্রায় ২০৮ কে (208K) ফলোয়ার সমৃদ্ধ এই Sayem Social Expert পেজটি নিজেদের “বাংলাদেশের #১ বিশ্বস্ত সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং গ্রোথ এজেন্সি” হিসেবে দাবি করলেও, বাস্তবে এরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে ব্লক করে দিচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আইনগত পদক্ষেপ ও সাধারণদের জন্য পরামর্শ
এই ধরনের অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের শিকার হলে ভুক্তভোগীদের চুপ না থেকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে:
১. প্রমাণ সংরক্ষণ: লেনদেনের স্ক্রিনশট, চ্যাট হিস্ট্রি, ট্রানজেকশন আইডি এবং কল রেকর্ড নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করুন।
২. জিডি (GD) করা: নিকটস্থ থানায় গিয়ে প্রতারক নম্বর ও ফেসবুক পেজ/আইডির বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি করুন।
৩. সাইবার হেল্পডেস্কে অভিযোগ: বাংলাদেশের পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন বা সিআইডি সাইবার ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে (Cyber Crime Investigation Division) সরাসরি অভিযোগ দায়ের করুন।
৪. সচেতনতা বৃদ্ধি: কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে কাজ না দেখে বা সঠিক ভেরিফিকেশন ছাড়া বিকাশ, নগদ বা রকেটে অগ্রিম টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকুন।
(দ্রষ্টব্য: সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখা এবং নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই এই জনসচেতনতামূলক নিউজ রিপোর্টটি প্রকাশ করা হলো।)
