Facebook Monetization প্রতারণা: টাকা নিয়েও কাজ না করার অভিযোগ
Facebook Monetization পাওয়ার আশায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তি করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক পেজ মালিক।
টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, Facebook-এ ওই ব্যক্তির একটি পোস্ট দেখে তিনি যোগাযোগ করেন। সেখানে মাত্র ৯৫০ টাকার বিনিময়ে Content Monetization Setup করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। যোগাযোগের পর ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে জানান, তার Facebook Page সম্পূর্ণ ঠিক আছে এবং খুব দ্রুত Monetization পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, কাজ শুরুর আগে ওই ব্যক্তি ৫০ শতাংশ অগ্রিম টাকা দাবি করেন। প্রথমে ভুক্তভোগী ৩০০ টাকা দিতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। পরে ৫০ শতাংশ অগ্রিম দেওয়ার শর্তে ভুক্তভোগী তাকে ৫৩০ টাকা প্রদান করেন।
টাকা দেওয়ার পর কয়েক দিন পার হলেও Page-এ কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে না পেয়ে ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির কাছে জানতে চান কাজ শুরু হয়েছে কি না। তখন তাকে বলা হয়, কাজ শুরু করা হয়েছে এবং ২–৩ দিনের মধ্যে কোনো উন্নতি দেখা যাবে না; প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এরপর তিনি দেখতে পান WhatsApp-এ তাকে ব্লক করা হয়েছে এবং ওই ব্যক্তির সঙ্গে আগের যোগাযোগও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন পর অন্য একটি নম্বর থেকে আবার যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি নিয়ে জানতে চান ভুক্তভোগী। তখন ওই ব্যক্তি জানান, কিছু সমস্যার কারণে তিনি বাসায় ছিলেন এবং আবারও অপেক্ষা করতে বলেন। তিনি দাবি করেন, ১৪ কর্মদিবস অপেক্ষা করলে কাজ হয়ে যাবে।
কিন্তু ১৪ দিন পার হওয়ার পরও ভুক্তভোগীর Page-এ প্রত্যাশিত কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। এরপর তিনি বিষয়টি যাচাই করার জন্য অন্য একটি Facebook Page-এর Monetization সংক্রান্ত একটি স্ক্রিনশট নিয়ে ওই ব্যক্তিকে পাঠান এবং ব্যঙ্গ করে জানান যে, তার কাজ নাকি খুব দ্রুত হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, মেসেজ পাঠানোর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওই ব্যক্তি উত্তর দেন এবং বলেন, তার কাজ করে দেওয়া হয়েছে, এখন বাকি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

ভুক্তভোগী তখন তাকে জানান, একটু অপেক্ষা করতে এবং পরে ভালো কিছু দেওয়ার কথা বলেন। এরপর তিনি ওই ব্যক্তির মেসেজের উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এরপর থেকে ওই ব্যক্তি বারবার ফোন করে বাকি টাকা দাবি করছেন। WhatsApp-এ ফোন না ধরলে সরাসরি মোবাইল নম্বরেও কল করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি দাবি করছেন যে তার Facebook Page-এর Monetization-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী নিজে Page-এ সেই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাননি। এ কারণে তিনি বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং অন্যদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আরও জানান, ওই ব্যক্তির Facebook Profile/Page-এর Followers, Likes এবং Comments নিয়েও তার সন্দেহ রয়েছে। তার দাবি, এসব Engagement কেনা হয়ে থাকতে পারে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট Profile/Page-এর প্রকৃত তথ্য ও Meta-এর নিজস্ব Monetization Status যাচাই করা প্রয়োজন।

Facebook Monetization-এর নামে প্রতারণা থেকে কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
বর্তমানে অনেক Facebook Page মালিক দ্রুত Monetization পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ Monetization করে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইতে পারেন। তাই টাকা দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করা উচিত।
প্রথমত, Facebook Monetization-এর যোগ্যতা ও Status যতটা সম্ভব Facebook/Meta-এর অফিসিয়াল Professional Dashboard এবং Monetization বিভাগে নিজে যাচাই করুন। শুধু কোনো ব্যক্তির কথার ওপর নির্ভর করে টাকা দেওয়া উচিত নয়।
দ্বিতীয়ত, কেউ যদি বলে “আপনার Monetization নিশ্চিত”, “কয়েক দিনের মধ্যেই হয়ে যাবে” বা “আমার বিশেষ যোগাযোগ আছে”—তাহলে সতর্ক হোন। কারণ Monetization-এর যোগ্যতা ও অনুমোদন প্ল্যাটফর্মের নিয়ম এবং আপনার Page-এর পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করতে পারে।
তৃতীয়ত, কোনো ব্যক্তিকে টাকা দেওয়ার আগে তার পরিচয়, আগের কাজের প্রমাণ, প্রকৃত Client-এর Feedback এবং পরিষেবার লিখিত শর্ত যাচাই করুন। সম্ভব হলে পুরো টাকা একসঙ্গে না দিয়ে নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
চতুর্থত, কাউকে Facebook Page-এর Password, ব্যক্তিগত Facebook Account-এর Login Code, OTP, Email Password বা Two-Factor Authentication Code দেওয়া যাবে না। এসব তথ্য দিলে Page ও ব্যক্তিগত Account দুটিই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
পঞ্চমত, টাকা লেনদেন করলে Payment Screenshot, Transaction ID, Messenger/WhatsApp Chat, ফোন নম্বর, Profile Link এবং বিজ্ঞাপনের Screenshot সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
এই ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী জানান, ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার হওয়া কথোপকথনের Screenshot, টাকা পাঠানোর প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তিনি অন্য Facebook Page মালিকদের অনুরোধ করেছেন, দ্রুত Monetization পাওয়ার আশায় অপরিচিত ব্যক্তিকে টাকা দেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করতে।
গুরুত্বপূর্ণ: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো ভুক্তভোগীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য বা ঘটনার স্বাধীন যাচাই ছাড়া তাকে আইনগতভাবে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।
